মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভুমি বিষয়ক ধারা

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ন আইন, ১৯৫০
(১৯৫১ সালের ২৮নং আইন)
[১৬ই মে, ১৯৫১]
প্রথম খণ্ড
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক


ধারা-(সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও বিস্তৃতি)
উপধারা-(১)এই আইন ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন নামে অভিহিত হইবে।
উপধারা-(২)এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।
ধারা-( সংজ্ঞাসমূহ)
এই আইনের বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনোকিছু না থাকলে-
উপধারা-(১)'সেস'শব্দটি ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় হার রেগুলেশন মোতাবেক ধার্যকৃত স্থানীয় হারসমূহকে অন্তর্ভূক্ত হইবে।
উপধারা-(২)'দাতব্য উদ্দেশ্য'শব্দটি গরীবদের ত্রাণ, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ও সাধারণ জনহিতকর অন্যান্য কার্যকে অন্তর্ভুক্ত করে;
উপধারা-(৩)'কালেক্টর'অর্থএকটি জেলার কালেক্টর এবং একজন ডেপুটি কমিশনার ও সরকার কতৃর্ক এই আইনেরঅধীনে কালেক্টরের সমস্ত বা যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত হতে পারেএরূপ অন্যান্য কর্মকর্তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে;
উপধারা-(৪)'কমিশনার'বলতে ৪৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক নিযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্রয় কমিশনারকে বুঝায়;
উপধারা-(৫)'কোম্পানী'বলতে ১৯১৩ সালের কোম্পানী আইনের অনুরূপ অর্থ বুঝাবে;
উপধারা-(৬)'সম্পুর্ণখাইখালাসী রেহেন'বলতে ঋণ হিসেবে গৃহীত অর্থ বা শস্য প্রদান করারনিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো প্রজা কর্তৃক কোনো ভূমির দখলাধিকার এই শর্তেহস্তান্তর করাকে বুঝায় যে রেহেনের মেয়াদকাল ঐ ভূমি হতে প্রাপ্ত মুনাফারদ্বারা সকল সুদসহ ঋণ শোধ বলে ধরে নেয়া হবে;
উপধারা-(৭)জোতসমুহেরক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'একত্রীকরণ'শব্দটি দ্বারা বিভিন্ন জোতে অবস্থিত সকল অথবাযে কোনো পৃথক পৃথক দাগের ভূমি একত্রে সন্নিবেশ করার নিমিত্ত পুনঃবন্টনকার্যক্রমকে বুঝায়;
উপধারা-(৮)'সমবায়সমিতি'বলিতে ১৯১২ সালের সমবায় সমিতি আইন বা ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় সমবায় সমিতিআইন মোতাবেক রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রিকত বলে গণ্য একটি সমিতিকে বুঝায়;
উপধারা-(৯)'রায়তীকৃষক'বা অধীনস্থ রায়তী কৃষক' বলিতে এমন রায়ত বা অধীনস্থ রায়তকে বুঝায় যেনিজ বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা চাকরদের দ্বারা বা বর্গাদারদের দ্বারাবা ভাড়াটে শ্রমিকদের দ্বারা বা সহ-অংশীদারদের দ্বারা চাষের নিমিত্ত ভূমিঅধিকারে রাখে;
উপধারা-()-'পরিত্যাক্তচা বাগান'অর্থ একক ব্যবস্থাপনার অধীনে রাখা ভূমির যে কোনো খণ্ড বা খণ্ডেরসমষ্টি যা চা-এর চাষ বা চা উত্‍পাদনের নিমিত্ত দখল, বন্দোবস্ত অথবা ইজারাদেওয়া হইয়াছিল বা যার মধ্যে চা গাছের ঝোপ ছিল বা আছে এবং যা সরকার কতৃর্কপ্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে পরিত্যক্ত চা বাগান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং উক্তভূমির উপর নির্মিত দালান কোঠাও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।
শর্ত থাকে যে, কোনো ভূমির একটি খণ্ড বা খণ্ডগুলিকে পরিত্যক্ত বা চা বাগান হিসেবে ঘোষণা প্রদানকালে সরকার বিবেচনা করিতে পারেন-
(i)পূর্ববর্তীপাঁচ বছরে ঐরূপ ভূমির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিমাণ এলাকায় চা-এর আবাদ করাহয়েছে;(ii) পূর্ববর্তী সাত বছরের অধিককাল এবং যে এলাকায় চা-এর আবাদ করাহয়েছে বিগত ৩ বছরে তার একর প্রতি উত্‍পাদন সেই সময় বাংলাদেশে চা আবাদকারীসমস্ত এলাকার একর প্রতি গড় উত্‍পাদনের শতকরা ২৫ ভাগের কম কি না সে বিষয়ে চাবোর্ডের মতামত;

উপধারা-(-) ভূমিরেকর্ড ও জরিপ পরিচালক' শব্দসমুহ ভূমি রেকর্ড এবংজরিপের অতিরিক্ত পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করে।

উপধারা-(১০)'দায়দায়িত্ব' শব্দটি কোনো জমিদারী, রায়তীস্বত্ব, হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বাভূমিসম্পর্কে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা উক্ত জমিদারী, রায়তীস্বত্ব,হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ববা ভূমির উপরে দখলদার কতৃর্ক সৃষ্ট কোনো রেহেন, দায়, পূর্বদায়, অধীনস্থপ্রজাস্বত্ব, ইজমেন্ট বা অপরাপর অধিকার বা স্বার্থ কিংবাঐগুলিতে নিহিত তার নিজস্বস্বার্থের উপর সীমাবদ্ধতা অারোপ করে তাকে বুঝায়।

উপধারা-(১১)'এস্টেট'অর্থঅাপাতত বলবত্‍ অাইন অনুসারে একটিজেলার কালেক্টর কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত ওরক্ষিত রাজস্ব প্রদানকারী জমি ওরাজস্বমুক্ত জমির সাধারণ রেজিস্টারগুলিরকোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত জমি এবং সরকারীসরকারী খাস মহল সমুহ ওরাজস্বমুক্ত জমি যাহা রেজিস্টার অন্তর্ভুক্ত হয় নাই এবংসিরেট জেলারনিম্নলিখিত জমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত -

(i)যে জমির জন্য অনতিবিলম্বে বা ভবিষ্যতে ভূমি রাজস্ব প্রদান করিতে হইবে যাহার জন্যএকটি পৃথক চুক্তি সম্পাদন করা হইয়াছে;

(ii)যেজমির জন্য ভূমি রাজস্ব হিসাবে পৃথক একটি অংশ প্রদান করিতে হইবে কিংবানিম্নরুপকরা হইয়াছে অথচ সেই অর্থের জন্য সরকারের সহিত কোনো চুক্তিসম্পাদিত হয় নাই;

(iii) এরূপ ভূমি যেগুলি সামাজিকভাবে ডেপুটিকমিশনারের রাজস্বমুক্ত এস্টেটের রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি;(iv)এরূপভূমি যেগুলি সম্পূর্ণরূপে সরকারী সম্পত্তি হিসেবে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ওরাজস্ব রেগুলেশনের ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রস্তুতকৃত রাজস্বভূক্ত বারাজস্বমুক্ত এস্টেটের সাধারণ রেজিস্টারে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে;
উপধারা-(১২)'হাট' বা 'বাজার'অর্থ সেই স্থান যে স্থানে লোকেরা সপ্তাহের প্রতিদিন বা বিশেষদিনে প্রধানতঃ কৃষিপণ্য বা সবজি, গবাদিপশু, পশুর চামড়া, হাস-মুরগী, মাছ-মাংস,ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত সামগ্রী বা অন্যান্য খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য বাদৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য বেচাকেনার জন্য সমবেত হয়; ঐস্থানে অবস্থিত ঐ সকল জিনিসের দোকানপাটও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৩)'হোল্ডিংবা জোত'অর্থ ভূমির একটি খণ্ড অথবা খণ্ডসমূহ বা তার একটি অবিভক্ত অংশ যাকোনো রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত এবং যা কোনো পৃথক প্রজাস্বত্বেরবিষয়বস্তু;
উপধারা-(১৪)'বসতবাটি'বলিতেবাসগৃহ ও তার আওতাভূক্ত ভূমি সেই সঙ্গে এ ধরনের বাসগৃহ সংলগ্ন বাসংশ্লিষ্ট কোনো আঙ্গিনা, বাগান, পুকুর,প্রার্থনার জায়গা, ব্যক্তিগতগোরস্থান বা শ্নশানঘাটকে বুঝায় এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে বাসগৃহের সুবিধাভোগের উদ্দেশ্যে বা কৃষি বা সবজি চাষের সঙ্গে সংযুক্ত বহির্বাটিকে বাসুনির্দিষ্ট সীমানার মধ্যকার ভূমিকে তা পতিত হোক বা না হোক;
উপধারা-(১৫)কোনোব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'খাস ভূমি' বা 'খাস দখলীয় ভূমি'বলিতে চিরস্থায়ীবন্দোবস্ত ব্যতীত ইজারাভূক্ত ভূমি, ঐ ভূমিতে দণ্ডায়মান ভবন ও প্রয়োজনীয়সংলগ্ন স্থানও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬)'ভূমি'বলিতেসেই রকমের ভূমিকে বুঝায় যেগুলি আবাদ করা হয় বা চাষাবাদ না করে ফেলিয়া রাখাহয় বা বছরের যে কোনো সময় জলে ভরা থাকে; এই ভূমি হইতে উদ্ভুত সুবিধা, ঘর-বাড়ি, দালানকোঠা এবং মাটির সাথে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুর সঙ্গেস্থায়ীভাবে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬-ক)সাময়িকভাবেবলবত্‍ যে কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে বা কোনো আদালতের রায় বা ডিক্রিআদেশে যাই থাকুক না কেন (১৬) উপধারায় বর্ণিত ভূমির সংজ্ঞার মধ্যে সকল রকমেরউন্মুক্ত বা বদ্ধ মত্‍স্য খামার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৭)'অকৃষিপ্রজা'অর্থ একজন প্রজা যে কৃষি চাষ বা ফলচাষের সাথে সম্পর্কিত নয় এরূপভূমির অধিকারী থাকে; তবে যে ব্যক্তি চিরস্থায়ী ইজারা ব্যতীত অন্য কোনোপ্রকার ইজারাসূত্রে ভূমি ও তার উপর নির্মিত দালান ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন জায়গাঅধিকারে রাখে সে তার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
উপধারা-(১৮)'নোটিফিকেশন' অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,
উপধারা-(১৮-ক)'ফলবাগান'বলিতে মানুষের প্রচেষ্টায় সৃষ্ট ফল গাছের বাগানকে বুঝায়, নারিকেল, সুপারি ও আনারসের এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৯)'নির্ধারিত'অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়া;
উপধারা-(২০)'স্বত্বাধিকারী'বলতেএমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে অছি-এর মাধ্যমে বা তার নিজের কল্যাণে কোনোএস্টেট বা তার অংশ বিশেশের মালিকানার অধিকারী থাকে;
উপধারা-(২১)'রেজিস্ট্রিকৃত' অর্থ কোনো দলিল রেজিস্ট্রিকরণের জন্য সাময়িকভাবে বলবত্‍ আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত;
উপধারা-(২২)'খাজনা'বলিতেপ্রজা কতৃর্ক ভূমি ব্যবহার বা দখলে রাখার নিমিত্ত আইনানুগভাবে ভূ-স্বামীকেপরিশোধযোগ্য বা অর্পণযোগ্য কোনো নগদ অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রীকে বুঝায়;
উপধারা-(২৩)'খাজনা গ্রহীতা'অর্থ একজন স্বত্বাধিকারী বা রায়তিস্বত্বের অধিকারী ও সেইসঙ্গে একজন রায়ত,একজন অধীনস্থ রায়ত বা একজন অকৃষি প্রজা যাহার ভূমি ইজারাপ্রদান করা হয়েছে ও তত্‍সহ সেবা কার্য প্রদান করার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকেনিষ্কর ভূমি প্রদানকারী উপরস্থ মালিক এর অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু চিরস্থায়ীব্যতীত অন্য প্রকারে যে ব্যক্তি তার এরূপ অকৃষি ভূমি ও এর উপরের কোনোদালান ও তত্‍সংলগ্ন প্রয়োজনীয় জায়গা স্থায়ীভাবে ইজারা প্রদান করিয়াছে সে এইসংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নহে;
উপধারা-(২৪)'রাজস্বঅফিসার'বলিতে এই আইন মোতাবেক বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি অনুসারে একজনরাজস্ব কর্মকর্তার সকল কার্য বা যে কোনো কার্য সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যেসরকার কতৃর্ক নিযুক্ত কোনো অফিসার রাজস্ব অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(২৫)'স্বাক্ষরিত'বলিতেঅন্তর্ভুক্ত যে ক্ষেত্রে স্বীয় নাম লিখিতে অক্ষম কোনো ব্যক্তি চিহ্নটিপ্রদান করে; উক্ত ব্যক্তির নামও স্বাক্ষরিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত;
উপধারা-(২৬)উত্তরাধিকার'বলিতে উইল ছাড়া বা উইলের মাধ্যমে প্রদত্ত উভয়বিধ উত্তরাধিকার অন্তর্ভুক্ত হয়;
উপধারা-(২৭)'প্রজা'বলিতেএমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে অপরের ভূমি দখল করিয়া আছে ও বিশেষ চুক্তিরঅবর্তমানে উক্ত ভূমির জন্য উক্ত ব্যক্তিকে খাজনা দিতে বাধ্য থাকেঃ
শর্তথাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণভাবে প্রচলিত আধিবাবর্গা চাষী বা ভোগব্যবস্থাধীনে অপরের ভূমি এই শর্তে চাষাবাদ করে যে উক্ত ব্যক্তিকে সেউত্‍পন্ন ফসলের একটি অংশ প্রদান করিবে তবে সে প্রজা নহে,কিন্তু উক্তব্যক্তি প্রজা হিসেবে গণ্য হইবে;
উক্ত ব্যক্তিকে যদি তার ভূ-স্বামীকতৃর্ক সম্পাদিত বা তার অনুকূলে সম্পাদিত ও ভূমির মালিক কর্তৃক গৃহীত কোনোদলিলের মাধ্যমে একজন প্রজা হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়; দেওয়ানী আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে যদি প্রজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছেকিংবা হয়;
উপধারা-(২৮)'মধ্যস্বত্ব'অর্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অধীনস্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থ;
উপধারা-(২৯)'গ্রাম'বলিতেসরকার কর্তৃক বা সরকারের কতৃর্ত্বাধীনে পরিচালিত জরীপে সুনির্দিষ্ট এবংপৃথক গ্রাম হিসেবে সীমানা চিহ্নিত ও জরিপকৃত এবং রেকর্ডভূক্ত এলাকাতে বুঝায়এবং যেখানে এ ধরনের কোনো জরিপ করা হয়নি সেখানে কালেক্টর রাজস্ব বোর্ডেরঅনুমোদনক্রমে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে ঐ এলাকাতে গ্রাম ঘোষণাকরতে পারেন;
উপধারা-(৩০)বত্‍সর বা কৃষি বত্‍সর বলিতে পহেলা বৈশাখে শুরু বাংলা সনকে বুঝাইবে;
উপধারা-(৩১)যেসমস্ত শব্দ বা বর্ণনা এই আইনের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডেব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু এই আইনে যেগুলির ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এবং বঙ্গীয়প্রজস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ বা সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৩৬ এ ব্যবহৃত হয়েছে ঐসমস্ত শব্দ ও বর্ণনার অর্থ যে ভাবে ঐ আইনসমূহে দেয়া হয়েছে সেগুলি ঐ আইন যেএলাকায় প্রযোজ্য সেই এলাকা সমূহে একই অর্থ বুঝাইবে।
ধারা-২ক(অব্যাহতি)

সরকারজনস্বার্থে কোনো জমিতে বা বিভিন্ন শ্রেণীর জমিতে নিহিত স্থানীয়কতৃর্পক্ষের স্বার্থকে এই আইন অনুসারে অর্জন করা হইতে সাধারণ বা বিশেষ আদেশদ্বারা অব্যাহতি দিতে পারিবেন।
দ্বিতীয় খন্ড
দ্বিতীয় অধ্যায়
কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থে অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিশেষ বিধানাবলী

 

ধারা- (কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থ অধিগ্রহণ এবংউহার ফলাফল)
উপধারা-(১)এইআইন কার্যকর হওয়ার সময়ে সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমেবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে খাজনা প্রাপকের নিম্নবর্ণিত সম্পত্তিসরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা অাইনসংগতবলিয়াবিবেচিতহইবে-
(i)বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত কোনো জেলায় বা জেলার অংশে বা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনাপ্রাপকের এস্টেট, মধ্যস্বস্ত, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান সকল স্বার্থ; এবং
(ii)১৮৭৯ সালের কোর্ট অব ওয়ার্ডস এ্যাক্টের অধীনে কোর্ট অবওয়ার্ডসের ব্যবস্থাধীনে পরিচালিত খাজনা প্রাপকের এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্ত-ভূমিতে (land) এবং মাটির নীচেঅবস্থিত খনিতে বিদ্যমান সকল স্বার্থ এই অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত।
উপধারা-(২)এইআইনের ২০ ধারার (২), (৩), (৪), (৫) ও (৬) উপধারায় বর্ণিত ব্যতিক্রমসাপেক্ষে এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান খাজনাপ্রাপকের স্বার্থ সম্পর্কিত (১) উপধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সাথেসাথে বা পরে যে কোনো সময় সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিততারিখ হইতে যে সকল ভূমি খাজনা প্রাপক খাস দখলে রাখিতে পারিবে না তা সরকারঅধিগ্রহণ করিবে এবং ঐ সমস্ত সম্পত্তি দায়মুক্ত অবস্থায় চুড়ান্তরূপে সরকারেরউপর বর্তাইবে।
উপধারা-(২ক)এইধারা মোতাবেক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে খাজনা প্রাপকের নাম নির্দিষ্ট উল্লেখথাকিবে বা যে এলাকায় তার স্বার্থ বিদ্যমান আছে তা উল্লেখ থাকিবে বা সরকারকর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো নিয়মে বর্ণিত থাকিবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) ও (২) এ উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তির আকার ঐরূপ হইবে ও বিবরণী ঐরূপ থাকিবে যা নিরূপন বা নির্ধারণ করা যাইবে।
উপধারা-(৪)উপধারা (১) অনুযায়ী প্রচলিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে-
(ক)বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত এস্টেট,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্বে নিহিত স্বার্থ, খাসদখলীয় সকল সম্পত্তিতে নিহিত স্বার্থ, ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্তঃভূমিতে এবং মাটির নীচে অবস্থিত খনিতে বিদ্যমানসমস্ত স্বার্থ ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে খাজনাআদায়ের নিমিত্ত অফিস অথবা কাচারী হিসেবে ব্যবহৃত দালান অথবা দালানের অংশেবিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ দায়হীনভাবে সরকারের উপর চুড়ান্তরূপেবর্তাইবে।
শর্ত থাকে যে, এই দফায় উল্লেখিত কোনো কিছুই সংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপকের বসতবাড়ীতে অবস্থিত দালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(খ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যেসমস্ত বকেয়া খাজনা, সেস ও ঐগুলির সুদ বৈধভাবে খাজনা প্রাপকের নিকটকালেক্টরের পাওনা ছিল সেগুলি আদায়যোগ্য হইবে ও আদায়ের অন্যান্য উপায়েরবিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাহাকেক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে।তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে বকেয়া খাজনা, সে এবংঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়া নেয়া হইবে।
(গ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যে সকলবকেয়া খাজনা, সেস এবং ঐগুলির সুদ খাজনা প্রাপকের প্রাপ্য ছিল তা উক্ততারিখে তামাদি হইয়া না গিয়ানা থাকাকালে সরকার কর্তৃক আদায়যোগ্য বলিয়া গণ্যহইবে এবং আদায়ের অন্যান্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারামোতাবেক কালেক্টরের আদেশে যে ব্যক্তির উক্তঅর্থপাওনাছিল তাহাকে যখনক্ষতিপূরণ (যদি পাওনাথাকে), প্রদান করা হইবে তখন তা হতে বকেয়া খাজনা, সেসএবং ঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়ালওয়া হইবে।(ঘ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহলের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৮৮২সালের বেঙ্গল ইমব্যাংকমেন্ট এ্যাক্ট বা ১৯৫২ সালের ইস্ট বেঙ্গলইমব্যাংকমেন্ট এন্ড ড্রেইনেজ এ্যাক্ট মোতাবেক খাজনা প্রাপকের নিকট যদিকোনো বকেয়া অর্থ অথবা ভবিষ্যতের কিস্তি পাওনা থাকে তাহলে আদায়ের অন্যান্যউপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশেতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া অর্থএবং ভবিষ্যতের কিস্তির অর্থ কেটে নেয়া হবে।
(ঘঘ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৯৪৪সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক যদি খাজনা প্রাপকের নিকট কোনো বকেয়াকৃষি আয়কর সরকারের পাওনা থাকে তবে আদায়ের অন্যান্য উপারের বিপরীত কোন কাজনা করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করাহইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া কাটিয়া রাখা হইবে।
(ঙ)এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি যে সমস্ত প্রজা (১) উপধারারবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত খাজনা প্রাপকের প্রত্যক্ষ অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ করিততাহারা প্রত্যক্ষভাবে সরকারের প্রজা বলিয়া গণ্য হইবে এবং খাজনা প্রদানযোগ্যভূমি অধিকারে অথবা দখলে রাখার নিমিত্তে প্রচলিত হারে সরকারকে খাজনাখাজনাপ্রদানকরিবে,অপর কোনো ব্যক্তিকে নহে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে১৯৫৭ সালের পূর্ব বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী)অধ্যাদেশ বলবত্‍ হওয়ার পূর্বে ৪৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে নিহিত খাজনা প্রাপকের স্বার্থের ক্ষতিপূরণনির্ধারণের বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া কোনো বিজ্ঞপ্তিপ্রকাশ করা হয়নি সেক্ষেত্রে এ সমস্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বের অধিকারী খাজনা প্রাপকের সরাসরি অধীনস্থ প্রজা ঐ সমস্ত ভূমিখাজনামুক্ত ভূমি ছাড়া অধিকারে রাখার জন্য ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ীচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ও ৫৩ ধারা অনুযায়ী সংশোধনকৃত স্বত্বলিপিতে নির্ধারিতহারে খাজনা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চ)উপধারা(২) অনুযায়ী যে সকল খাসভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি সেই সমস্ত ভূমি খাজনাপ্রাপকগণ সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজা হিসেবে দখলে রাখার অধিকারী হইবে এবং ৫ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত খাজনা সরকারকে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চচ)সিলেটজেলা ছাড়া অপরাপর জেলার ক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী স্বত্বলিপিচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বা ৫ ধারা অনুযায়ী খাজনা নির্ধারিতনা হওয়া পর্যন্ত (ঙ) দফার শর্তে ও (চ) দফায় বর্ণিত প্রজাগণ ৪র্থ অধ্যায় মতেপ্রণয়নকৃত বিধি অনুযযায়ী প্রাথমিক খাজনার বিবরণীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকেখাজনা প্রদানকরিবে।সিলেট জেলার ক্ষেত্রে (ঙ) দফার শর্তে উল্লেখিত প্রজাগণ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন বা ১৯৮৬ সালের আসাম ল্যান্ড এ্যান্ডরেভিনিউ রেগুলেশন বা ১৯৫০ সালের বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্বআইন মোতাবেক সত্যায়িত খসড়া স্বত্বলিপির উপর ভিত্তি করে প্রণয়নকৃত সাময়িকখাজনার বিপরীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকে খাজনা দিতে হইবে এবং (চ) দফায়বর্ণিত প্রজাগণকে ৫ ধারা ও তদনুযায়ী প্রণীত বিধি অনুসারে নির্ধারিত হারেসরকারকে খাজনা প্রদানকরিতে হইবে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩)উপধারা অনুযায়ী চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপিতে হ্রাসকৃত হারে বাবির্ধিত হারে উক্ত খাজনা দেখানো হয় বা ৫ ধারা অনুযায়ী হ্রাসকৃত হারে বাবর্ধিত হারে নির্ধারিত হয় বা ৫৩ ধারা অনুযায়ী উক্ত খাজনার পরিমাণ হ্রাসকিংবা বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রজার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতেপূর্বে দেয়া খাজনার পরিমাণ কম হইলে নির্ধারিত খাজনার বাকী অংশ দিতে বাধ্যথাকিবে এবং বেশী হলে অতিরিক্ত খাজনা ভবিষ্যতে প্রদত্ত খাজনার সাথে সমন্বয়সাধন করার অধিকারী হইবে।
(ছ)দফা (ঙ), (চ) ও (চচ) এ উল্লেখিত বকেয়া খাজনা আদায় করার জন্য উপায়ের বিপরীত কোনোকাজ না করিয়া ১৯১৩ সালের বঙ্গীয় সরকারী দাবি আদায় আইন মোতাবেক আদায়যোগ্যহইবে।(জ)দফা (ঙ) অনুযায়ী যে সকলমধ্যস্বত্ব সম্পূর্ণরূপে ও প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে স্থানান্তরিতহইয়াছে তা ১৯৬৮ সালের বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব বিক্রয় আইন-এর ১ ধারা অনুসারেপ্রদত্ত মধ্যস্বত্বের সংজ্ঞার ধারার একই অর্থ বুঝাইবে।
উপধারা-(-ক)আপাততঃবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কিছুথাকাসত্ত্বেও সিলেট জেলার ক্ষেত্রেপ্রযোজ্য (৪) উপধারার (ঙ), (চ) এবং (চচ) দফা মোতাবেক প্রদত্ত বকেয়া খাজনাআদায় করিবার ক্ষেত্রে তামাদি হওয়ার সময়সীমা খাজনা গ্রহণের স্বার্থঅধিগ্রহণের তারিখ হইতে ২৪ মাস বাদদিয়গণনা করিতেহইবে।
উপধারা-(৫)বিদায়ী খাজনা প্রাপকরা যাদের স্বার্থ এই ধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে তাহারা এই আইনে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারী হইবে।
ধারা-৩ক(বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ)

 ৩ধারা অনুযায়ী এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বা খাস দখলীয় ভূমিতেবিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার উক্তধারার (১) উপধারা বা (২) উপধারা মোতাবেক উক্ত স্বার্থ অথবা ভূমি সম্পর্কিতবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পূর্বে যে কোনো সময়ে নির্ধারিত উপায়ে খাজনাপ্রাপকের উপর নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহে এমননির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরমে নোটিশে নির্দেশিতভাবে নিম্নলিখিত সকল অথবাযে কোনো তথ্য সংবলিত একটি বিবরণী দাখিল করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতেপারেন।
(i)খাজনা প্রাপক কর্তৃক অধিকৃত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ওপ্রজাস্বত্বের মোট পরিমাণ এবং বর্ণনা ও বার্ষিক রাজস্ব খাজনা ও সেসসমূহযাহা সে তাহার ভূমির তাত্‍ক্ষণিক উপরস্থ ভূমির ভূমি মালিককে বা সরকারকেক্ষেত্র ভেদে প্রদান করিত তাহার বিবরণ;(ii)যে গ্রাম, থানা এবং জেলায়এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নাম ওসেই সঙ্গে তাত্‍ক্ষণিক পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের অধিক নহে সময়ের জন্য ব্যবহৃতখাজনা আদায়ের কাগজপত্রের তালিকা;(iii)খাজনা প্রাপকের খাস দখলীয় সকল ভূমি যেগ্রাম এবং যে থানায় অবস্থিত তাহার নামসহ ভূমির পরিমাণ, বর্ণনা ওশ্রেণীবিন্যাস;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বেরঅন্যান্যসহ অংশীদারগণ যাহারা যৌথভাবে খাজনা প্রাপকের সঙ্গে খাজনা আদায়করিত তাহাদের নাম এবং নির্ধারিত অংশসমূহের বিবরণ; ও
(v) উক্তরূপ অন্যান্য বিবরণ যাহা রাজস্ব অফিসার প্রয়োজন মনে করেন।


ধারা-(বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ প্রদান ও নির্দেশ পালন না করার জন্য দন্ড)
উপধারা-(১): ৩(১) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যতশীঘ্র সম্ভব রাজস্ব অফিসারনির্ধারিত পন্থায় খাজনা প্রাপক যাহার সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডসআইন ১৮৭৯মোতাবেক কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর পরিচালনাধীন রহিয়াছে সেছাড়া বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত প্রত্যেক খাজনা প্রাপককে নোটিশ জারির মাধ্যমে দাখিল করার নিমিত্তনির্দেশ দিতে পারেন-
(ক)নির্ধারিত ফরমে একটি বিবরণী যাতে দেখাতে হবে-
(i)উক্তবিজ্ঞপ্তি দ্বারা যে সকল এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বেতার স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার মোট পরিমাণ ও বর্ণনা এবং সেগুলিরবার্ষিক খাজনা ও সেস, যা সে ভূমির উপরস্থ ভূ-স্বামী অথবা সরকারকে,ক্ষেত্রভেদে প্রদান করত তার বর্ণনা;(ii)যে গ্রাম, থানা ও জেলায় এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নাম এবং প্রত্যেকগ্রামের খাজনা ও সেস, কর বাবদ মোট বার্ষিক দাবির পরিমাণ ও দাবিরসমর্থনেদাবীআদায়ের কাগজপত্রের তালিকা।
(iii)তার খাস দখলীয় ভূমির পরিমাণএবং বর্ণনা;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের খাজনা গ্রহীতারসাথে যৌথভাবে খাজনা আদায়কারীর সহ-অংশীদারদের নাম ও নির্ধারিত অংশসমূহ; এবং
(খ)রাজস্বঅফিসারের প্রয়োজন অনুযায়ী অপরাপর বিবরণ, কাগজপত্র বা দলিলপত্র এবং নোটিশেউল্লখিত অফিসারের নিকট নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহেএরূপ সময়ে উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার সমস্ত কাগজপত্র;
শর্ত থাকেযে, ৩ক ধারা মোতাবেক নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্ত বিবরণ দাখিল করা হয়েছেতাহা সঠিকভাবে প্রদত্ত হইয়াছেবলিয়া রাজস্ব অফিসার মনে করিলে খাজনাপ্রাপককে আর বিবরণী দাখিল করিতে হইবে না।
উপধারা-(২):উপধারা (১) এ বর্ণিত কাগজপত্র যে অফিসার গ্রহণ করিবেন তিনি হস্তান্তরিত কাগজপত্রের জন্য রশিদ প্রদান করবেন ।
উপধারা-(৩):যৌথভাবেআদায়কারী সকল সহ-অংশীদার যৌথভাবে অধিকৃত এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোতবা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক এই ধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক নোটিশেপ্রদত্ত নির্দেশসমূহ পালন করিবার নিমিত্তে যৌথ ও এককভাবে দায়ী থাকিবে।
উপধারা-(৪):এইধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক যাহার উপর নোটিশ দেয়া হইয়াছে সেইব্যক্তি যদি নোটিশে উল্লেখিত সময় বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহারস্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে উক্তনোটিশে উল্লেখিত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সকলবা কোনো নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইয়াথাকে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশনকরে বা কোনো তথ্য, কাগজপত্র বা দলিল গোপন করিয়াথাকেতবে-
(ক)সেই ব্যক্তি শুনানীর সুযোগ অন্তে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ধার্যকৃত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবেন, যাহা-
(i)রাজস্বপ্রদানের আওতাভুক্ত এস্টেটের বা খাজনা প্রদানের আওতাভুক্ততালুক,রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে এস্টেটের বার্ষিক রাজস্ববা তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের বার্ষিক খাজনার পাঁচগুণ,অবস্থাভেদে বর্ধিত হইতে পারে; এবং
(ii)রাজস্বমুক্ত এস্টেটের বাখাজনামুক্ত তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে রাজস্বঅফিসার তার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে ২,৫০০/- টাকার বেশী নয় এরূপ যে কোনোপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারেন।
(খ)এতদ্ব্যতীত রাজস্ব অফিসার কর্তৃক নিদেশিত হইলে সে ৬ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত অন্তবর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা হইতে বঞ্চিত হইতে পারে।
উপধারা-(৫):(i)উপধারা(১) মোতাবেক যার উপর নোটিশ জারি করা হইয়াছে সেই খাজনা প্রাপক নোটিশেউল্লেখিত সময়ের মধ্যে বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাপ্রয়োগ দ্বারা মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে যদি নোটিশে উল্লেখিতনির্দেশ অনুযায়ী তাহার এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ববিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজস্ব অফিসার বাতত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোনো ব্যক্তি প্রয়োজন মনে করিলে সহায়তাসহ যেকোনো ভূমিতে বা দালানকোঠায়, যেখানে ঐ সমস্ত কাগজপত্র পাওয়া যাইবে বলিয়ারাজস্ব অফিসারের বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছেসেখানেপ্রবেশ করিতে পারেন এবংউক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব জোত বা প্রজাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা করারনিমিত্ত যে সমস্ত কাগজপত্র দরকার বলিয়া তিনি বিবেচনা করিবেন সেই সমস্তকাগজপত্র জব্দ করিতে এবং দখলে লইতে পারেন;
শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসারঅথবা ঐরূপ অন্য কোনো ব্যক্তি দালান সংলগ্ন আবদ্ধ উঠান অথবা বাগানে উক্তউঠান বা বাগানের বাসিন্দা অথবা দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত বা যদি উক্ত সম্মতিদিতে অস্বীকার করা হয় তবে উক্ত বাসিন্দা অথবা দখলকারীকে তাহার উদ্দেশ্যসম্বলিত লিখিত দুই ঘন্টার নোটিশ প্রদান ব্যতীত প্রবেশ করিবেন না;
আরওশর্ত থাকে যে, এই উপধারা মোতাবেক যে সমস্ত কাগজপত্র রাজস্ব অফিসার অথবা অপরকোনো ব্যক্তি কর্তৃক দখলে নেয়া হইবে তার একটি তালিকা রাজস্ব অফিসারসংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপককে প্রদান করিবেন।(ii)উপধারা (৪) এর বিধানের হানিকরকিছুনা করিয়াথাকিলেএ উপধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৬):খাজনাপ্রাপক যে এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র(১) উপধারা মোতাবেক সরকারের কোনো অফিসারের নিকট হস্তান্তর করিয়াছে সে বাউক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পন্থায় উক্ত কাগজপত্র পরিদর্শন করার অধিকারী হইবে ওনির্ধারিত ফিস প্রদান করিয়া উক্ত কাগজপত্রের অনুলিপি পাওয়ারও অধিকারীহইবে।